প্রচারণা তুঙ্গে, বিএনপির গলার কাঁটা নিজ দলের স্বতন্ত্র
jagonews24.com
Saturday, February 7, 2026

ভারত সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহের দুইটি উপজেলার নাম হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া। এই দুই উপজেলা নিয়ে ময়মনসিংহ-১ আসন। স্বাধীনতার পর থেকে বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আটবার, বিএনপির প্রার্থী দুইবার ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী দুইবার বিজয়ী হয়েছেন। ফলে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচ...
ভারত সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহের দুইটি উপজেলার নাম হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া। এই দুই উপজেলা নিয়ে ময়মনসিংহ-১ আসন। স্বাধীনতার পর থেকে বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আটবার, বিএনপির প্রার্থী দুইবার ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী দুইবার বিজয়ী হয়েছেন। ফলে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এবার নির্বাচনি লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ না থাকায় দাঁড়িয়েছে নতুন রাজনৈতিক হিসাব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কে নির্বাচিত হবেন, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনের রাজনৈতিক মাঠ জমে উঠেছে। প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। উঠান বৈঠকের পাশাপাশি ধর্মীয় সভায় যোগদান করছেন তারা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন, দিচ্ছেন উন্নয়নের নানান প্রতিশ্রুতি।
তবে এই আসনে অন্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিরোধ না থাকলেও বড় দল বিএনপিতে কোন্দল ও গ্রুপিং রাজনীতি চাঙা। ফলে এর প্রভাব পড়তে পারে ভোটের হিসাবে।
বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন দলের যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। কেন্দ্রীয় এই নেতার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্থানীয় বিএনপি নেতা সালমান ওমর রুবেল। তিনি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য। এছাড়া তিনি আলোচিত সফল ব্যবসায়ী। পরিচিতি পেয়েছেন ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচন করছেন সালমান ওমর রুবেল।
২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রয়াত আলী আসগর বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলেও পরে তা সালমান ওমর রুবেলকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক ঋণ জটিলতায় শেষ পর্যন্ত রুবেল বাদ পড়লে এই মনোনয়ন পান সাবেক বিচারপতি টিএইচ খানের পুত্র বিশিষ্ট সাংবাদিক আফজাল এইচ খান।
মূলত সালমান ওমর রুবেল জনকল্যাণমূলক কাজ করে জনপ্রিয় হয়েছেন। বিশিষ্ট এই ব্যবসায়ী বছরজুড়ে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন, অসহায়দের আর্থিক সহায়তা ও নলকূপ দিয়ে ও করোনাকালীন সময়ে মানুষের পাশে থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। কখনো রাজপথ থেকে সরেননি কেন্দ্রীয় এই নেতা। বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে এক সঙ্গে কাজ করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে এই আসন পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া তিনি। নিজের পক্ষে ভোট টানতে মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন।
এই আসনে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল ছাড়াও আরও ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. জিল্লুর রহমান (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম (রিকশা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম (কাস্তে), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. আ. রাজ্জাক (কাঁচি) ও বাংলাদেশ লেবার প্রার্টির প্রার্থী মুহাম্মদ রাশেদুল হক (আনারস)।
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের সবাই নিজেদের মতো প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ভোটারদের মাঝে আলোচনা চলছে বিএনপি মনোনীত প্রিন্স ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলকে নিয়ে। তাদের দুজনই সর্বশক্তি দিয়ে আসন পেতে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সীমান্তবর্তী আসনটিতে মুসলমান ছাড়াও হিন্দু, গারো, ডালু, হাজংসহ নানান সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। এই আসনে আদিবাসী ভোটাররাই মূল ফ্যাক্টর। আদিবাসী ও আওয়ামী লীগের ভোট বাগিয়ে নিতে সব ধরনের কৌশল খাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ভোটাররা বলছেন, হিসাব কষে ভোট দেবেন তারা। যিনি যোগ্য, কথা দিয়ে কথা রাখবেন বলে বিশ্বাস হবে, তাকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসনটির দুই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৬০৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ১০৪ জন ও হিজড়া ৪ জন। দুই উপজেলার ১৪৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে গণসংযোগসহ বৈঠক করছি। যুবসমাজকে লক্ষ্য করে মাদকবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবে বলে প্রত্যাশা করছি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, যে এলাকাতেই যাচ্ছি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা আমাকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল বলেন, আমি বছরজুড়ে সবচেয়ে বেশি জনকল্যাণমূলক কাজ করেছি। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছি। এখনো মানুষের কল্যাণেই বিভিন্ন কাজ করছি, ভবিষ্যতেও করবো। আমি নির্বাচিত হলে এই আসনের সবক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি করা হবে। কখনোই অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারেকাছেও যাননি, ভবিষ্যতেও যাবো না। জনগণের কল্যাণ করার উদ্দেশ্যেই নির্বাচিত হতে প্রার্থী হয়েছি।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী দলকে গোছানোসহ সরকারবিরোধী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে একসাথে কাজ করেছি। দল সবকিছু বিবেচনা করেই আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিপুল পরিমাণ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবো ইনশাআল্লাহ।
ময়মনসিংহের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। কোনো কেন্দ্রে কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে দমন করবে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন/এএসএম
Read the full article
Continue reading on jagonews24.com

