2 hours ago

তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চান আমিনুল

jagonews24.com

Tuesday, February 17, 2026

3 min read
তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চান আমিনুল
Share:

‘অভিনন্দন’। অভিনন্দন বার্তা পেয়ে ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে উচ্ছ্বসিত আমিনুল হক ধন্যবাদ জানিয়ে সবার সহযোগিতা চাইলেন। সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক প্রত্যাশিতভাবেই পেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এর আগে বিভিন্ন সরকারের সময় দেখা গেছে, ক্রীড়াঙ্গনে অচেনা কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যাদের জীবনে...

‘অভিনন্দন’। অভিনন্দন বার্তা পেয়ে ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে উচ্ছ্বসিত আমিনুল হক ধন্যবাদ জানিয়ে সবার সহযোগিতা চাইলেন। সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক প্রত্যাশিতভাবেই পেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

এর আগে বিভিন্ন সরকারের সময় দেখা গেছে, ক্রীড়াঙ্গনে অচেনা কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যাদের জীবনে কখনো ক্রীড়াঙ্গনের সাথে কোনো যোগাযোগ ছিল না। আমিনুল হক সেই জায়গায় ব্যতিক্রম। খেলার মাঠ থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেল-জুুলুম, মামলা সহ্য করেছেন। তারপরও সুযোগ পেলেই ক্রীড়াঙ্গনে যোগাযোগ করেছেন। রাজনীতি করলেও কখনো ক্রীড়াঙ্গনের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেননি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির ক্ষমতায় আসা ছিল সময়ের ব্যাপার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি ও ক্ষমতায় থাকা দীর্ঘায়িত না করলে বিএনপি আরও আগেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই আমিনুল ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে নিজের চিন্তাভাবনা শুরু করেন এবং নিজের মতো করে সবকিছু গুছিয়ে নিতে থাকেন।

তারেক রহমানের খুবই স্নেহধন্য আমিনুল হক। তার প্রতিটি পরিকল্পনা নিয়ে আমিনুল কথা বলেন তারেক রহমানের সাথে। বিএনপি চেয়ারম্যানও আমিনুলকে ভবিষ্যৎ ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই তো নির্বাচনে হারার পরও টেকনোক্র্যাট কোটায় তাকে প্রতিমন্ত্রী বানিয়ে ক্রীড়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। অতীতে কখনো টেকনোক্র্যাট কোটায় এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাননি আমিনুল।

মঙ্গলবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আমিনুল হক শুধু এতটুকুই বলেন, ‘আমরা নির্বাচনি ইশতেহার ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করাই হবে লক্ষ্য। আমরা যদি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যায় খেলাধুলাকে শৌখিনতা থেকে বের করে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই দলটির প্রধান লক্ষ্য।’

আমিনুল হক বিভিন্ন সময় ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে আলোচনার সময় বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-কর্মসূচির মাধ্যমে ১২-১৪ বছরের প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা, ৪৯৫টি উপজেলায় মানসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করা ও ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে।’ তার আগের এই কথাগুলো কেবল কথার কথাই ছিল না। বিএনপির ইশতেহারেও সেটা উপস্থাপন করা হয়েছে প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ক্রীড়া ছড়িয়ে দিতে হলে সেখানে ক্রীড়ায় অভিজ্ঞদের ভূমিকা থাকতে হবে। তাই আমিনুল হক অগ্রাধিকার দেবেন দেশের সব উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগে। এমনকি খেলাধুলার ডিসিপ্লিনভুক্ত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব দেবেন আমিনুল। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিকেএসপির শাখা প্রতিষ্ঠা করা, সব মহানগরসহ দেশের গ্রামীণ জনপদে খেলার মাঠের সুব্যবস্থা করা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধাবঞ্চিতদের খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং দেশে ক্রীড়া সরঞ্জাম ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে আমিনুল হকের দল থেকে।

মাঠের স্বল্পতার কথা সবসময়ই বলেছেন আমিনুল। খেলাধুলার অন্যতম শর্ত হচ্ছে খেলার পরিবেশ তৈরি এবং মাঠের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা। বিএনপির ইশতেহারে সে দিকটাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক মাঠ তৈরি ও মাঠ দখলমুক্ত করা, থানাভিত্তিক খেলার মাঠ তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সম্ভব হলে দুটি ওয়ার্ডের মাঝে একটি মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের কথাও বলেছে বিএনপি। যেসব মাঠ দখল হয়ে আছে সেগুলো বেদখল করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি। এ প্রতিশ্রুতিগুলো ধীরে ধীরে বাস্তাবায়ন করতে হবে আমিনুলকে।

আগামী ৫ বছরে দেশের খেলাধুলাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কীভাবে গ্রহণযোগ্য স্থানে নেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে আমিনুলকে। মাল্টি গেমস ইভেন্ট, যেমন সাউথ এশিয়ান গেমস, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের সম্মানজনক স্থান অর্জনের জন্য দেশে একটি আধুনিক জাতীয় অলিম্পিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বিএনপির ইশতেহারে।

ক্রিকেট, ফুটবল ও হকির পাশাপাশি বাস্কেটবল, ভলিবল, দাবা ও অন্যান্য খেলায়ও পেশাদার লিগ চালুর কথা ও বিভিন্ন সময় আলোচনা করেন আমিনুল। এগুলো তার দলের ইশতেহারেও যোগ করা হয়েছে। ‘স্পোর্টস ইকোনমি’কে সম্প্রসারণ ও উৎসাহ প্রদান করা, যাতে ক্রীড়াঙ্গন দেশের অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন করতে পারে সে লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। খেলাধুলার মানোন্নয়নের জন্য ক্রীড়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পিপল-টু-পিপল সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি’-কে গুরুত্বারোপ করা হবে। দেশে আধুনিক ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে বিএনপি।

আরআই/এমএমআর

Read the full article

Continue reading on jagonews24.com

Read Original

More from jagonews24.com