1 hours ago

ভোটের অমোচনীয় কালি বেগুনি থেকে কালো হয় যে কারণে

jagonews24.com

Friday, February 13, 2026

2 min read
ভোটের অমোচনীয় কালি বেগুনি থেকে কালো হয় যে কারণে
Share:

ভোট দিতে গিয়ে আঙুলে যে বেগুনি বা কালচে দাগ লাগানো হয়, সেটি শুধু একটি চিহ্ন নয় এটি নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তার অন্যতম বৈজ্ঞানিক হাতিয়ার। সাধারণ চোখে বিষয়টি খুব সহজ মনে হলেও এই অমোচনীয় কালির পেছনে রয়েছে সূক্ষ্ম রসায়ন, আলোক-সংবেদনশীল যৌগ এবং বাস্তব প্রয়োগের চমৎকার সমন্বয়। বিশেষ করে সূর্যের আলোতে এ...

ভোট দিতে গিয়ে আঙুলে যে বেগুনি বা কালচে দাগ লাগানো হয়, সেটি শুধু একটি চিহ্ন নয় এটি নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তার অন্যতম বৈজ্ঞানিক হাতিয়ার। সাধারণ চোখে বিষয়টি খুব সহজ মনে হলেও এই অমোচনীয় কালির পেছনে রয়েছে সূক্ষ্ম রসায়ন, আলোক-সংবেদনশীল যৌগ এবং বাস্তব প্রয়োগের চমৎকার সমন্বয়। বিশেষ করে সূর্যের আলোতে এই কালি আরও গাঢ় হওয়া বা কালো হয়ে ওঠার ঘটনাটি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। কিন্তু এর পেছনের বিজ্ঞান বুঝলে বিষয়টি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত মনে হয়।

অমোচনীয় কালির প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো সিলভার নাইট্রেট। এটি ত্বকের উপরিভাগে থাকা প্রাকৃতিক লবণ বিশেষ করে ক্লোরাইড আয়নের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সিলভার ক্লোরাইড তৈরি করে। এই যৌগটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আলোক-সংবেদনশীল।

jagonewsকালি লাগানোর মুহূর্তে দাগটি হালকা দেখা যেতে পারে। কিন্তু রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হয়ে যায় তখনই। সিলভার ক্লোরাইড তৈরি হওয়ার পর সেটিই পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত থাকে যেটি ঘটে আলোতে। সিলভার ক্লোরাইড একটি ফটোসেনসিটিভ বা আলো-সংবেদনশীল যৌগ। যখন এর ওপর অর্থাৎ আঙুলের দাগের ওপর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পড়ে, তখন এটি ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মৌলিক সিলভার কণায় পরিণত হয়। এই সূক্ষ্ম সিলভার কণাগুলোই কালচে বা গাঢ় রঙের দাগ তৈরি করে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই রং ত্বকের কোনো ক্ষতি করে না।

কিন্তু এর পেছনে কারণ রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি অনেকটা পুরোনো দিনের সাদা-কালো ফটোগ্রাফির মতো। আগে ক্যামেরার ফিল্মে আলো পড়লে ছবির অংশ গাঢ় হয়ে উঠত, কারণ সেখানে সিলভার-ভিত্তিক যৌগ ব্যবহার করা হতো। একই নীতিতে ভোটের কালিও আলো পেলে আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

jagonewsঅনেকেই লক্ষ্য করেন, ভোট দিয়ে ঘরের ভেতরে থাকলে দাগ হালকা লাগে, কিন্তু বাইরে রোদে গেলে তা স্পষ্ট ও কালো হয়ে যায়। অনেকের ধারণা হয়তো ধুলা বা ময়লা জমে এমন হয়েছে। আসলে তা নয় এটি সম্পূর্ণ আলোক-প্রভাবিত রাসায়নিক পরিবর্তন। সূর্যের আলো যত বেশি পড়ে, তত বেশি সিলভার ক্লোরাইড ভেঙে গাঢ় দাগ তৈরি হয়।

এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই অমোচনীয় কালি এত কার্যকর। যদি দাগ হালকা থাকত বা সহজে উঠে যেত, তাহলে কেউ চাইলে তা মুছে আবার ভোট দেওয়ার চেষ্টা করতে পারত। কিন্তু আলোতে গাঢ় হয়ে যাওয়ার ফলে দাগটি আরও স্থায়ী, দৃশ্যমান এবং যাচাইযোগ্য হয়ে ওঠে। ফলে জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমে যায়।

একটি ছোট্ট কালির দাগের মধ্যে লুকিয়ে আছে শক্তিশালী রসায়ন, আলোর পদার্থবিদ্যা এবং প্রশাসনিক কৌশলের সমন্বয়। সিলভার ক্লোরাইডের আলোক-সংবেদনশীল বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে তৈরি এই কালি শুধু একটি চিহ্ন নয় এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৈজ্ঞানিক সমাধান।

সূত্র: সিএনএন স্টাইল

আরও পড়ুন
ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের কাজ কি?
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে কীভাবে?

কেএসকে

Read the full article

Continue reading on jagonews24.com

Read Original

More from jagonews24.com