কক্সবাজারের চার আসনের তিনটিতে এগিয়ে বিএনপি
jagonews24.com
Thursday, February 12, 2026

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। এরই মাঝে কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র হয়ে ফলাফল আসা শুরু করেছে। সেখানে বেসরকারি হিসেবে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের তিনটিতে বিএনপির প্রার্থীরা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। আর একটি আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মাঝে হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার চিত্...
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। এরই মাঝে কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র হয়ে ফলাফল আসা শুরু করেছে। সেখানে বেসরকারি হিসেবে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের তিনটিতে বিএনপির প্রার্থীরা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। আর একটি আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মাঝে হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার চিত্র আসছে।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা করতে পারেনি।
বিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া ফলাফলে জানা গেছে, এবার জাতীয় রাজনীতি আলোচনায় থাকা কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রার্থি হন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর তরুণ প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক। ভোট গণনা শুরুর পর বিভিন্ন কেন্দ্রের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গ্রামাঞ্চলের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। দলীয় এজেন্টরা বলছেন, শেষ সপ্তাহের প্রচারণা ও গণসংযোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচজন থাকলেও মূল লড়াইয়ে ছিলেন সাবেক এমপি আলমগীর ফরিদ (ধানের শীষ) এবং জামায়াতের ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
দ্বীপাঞ্চলের কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ধানের শীষ এগিয়ে আছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, সংগঠনের তৎপরতা ও কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে।
কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনেও ছয়জন প্রার্থী থাকলেও ভোটারদের দৃষ্টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিলেন বিএনপির লুৎফুর রহমান কাজল ও জামায়াতের শহীদুল আলম বাহাদুর।
গণনা চলাকালে শহর ও গ্রাম মিলিয়ে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। তরুণ ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার-৩ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনটি জাতীয়ভাবে আলোচিত। রোহিঙ্গা সংকট, মাদক ও মানবপাচার, সীমান্ত নিরাপত্তা- এসব ইস্যু এই আসনকে আলাদা গুরুত্ব এনে দেয়। এটাকে রাজনৈতিক বোদ্ধারা ‘লক্ষ্মী আসন’ বলেও অভিহিত করেন। অতীতে এখানে যে দলের প্রার্থী জয় পেয়েছেন, সেই দলই সরকার গঠন করেছে- এমন একটি বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে।
এবার বিএনপির প্রার্থী সাবেক চারবারের এমপি শাহজাহান চৌধুরীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা আমির নুর আহমদ আনোয়ারী। প্রাথমিক গণনায় সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্যে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলীয় এজেন্টরা। তবে সেখানে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা করেছিলেন। অনেক কেন্দ্রেই তাঁরা সক্রিয় ছিলেন, এজেন্ট বসানো ও ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেছেন। তবে সার্বিক চিত্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস ও সক্রিয়তা দেখা গেছে। গণনা চলাকালে কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যবধান ছিল ১৯-২০ ধরনের হাড্ডাহাড্ডি, কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। ফলে সামগ্রিকভাবে মাঠের চিত্র বিএনপির পক্ষেই ঝুঁকে আছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকেরা।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, এখনো গণনা চলছে। সব কেন্দ্রের ফল একত্র হওয়ার পরই চূড়ান্ত চিত্র পরিষ্কার হবে। চেষ্টা চলছে শিগগিরই ফলাফল ঘোষণা দেওয়ার।
সায়ীদ আলমগীর/এমএন/জেআইএম
Read the full article
Continue reading on jagonews24.com



